কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে ডুলাহাজারা রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকের মনোরম প্রাকুতিক বনাঞ্চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কটি অবস্থিত। এক সময় এখানকার চির সবুজ বনাঞ্চল ছিলো গগনচুম্বি গর্জন, বৈলাম, তৈলসুর, সিভিট, চাপালিশ, চাম্পাফুল ও বিবিধ লতাগুল্ম সমৃদ্ধ এবং বনাঞ্চলে দেখা যেত হাতি,বাঘ,হরিণ,ভালুক,বানরসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ। উক্তস্থানে তৎকালীন কক্সবাজার বনবিভাগ কর্তৃক ৪২.৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে ১৯৮২ সালে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং অবৈধ শিকার ও পাচারের ফলে এ বনাঞ্চলের অসংখ্য উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী হারিয়ে যেতে থাকে। উচু নিচু টিলা সমৃদ্ধ চির সবুজ এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা,গবেষণা, পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে চিত্ত বিনোদন সহ আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য উক্ত হরিণ প্রজনন কেন্দ্রটির পরিসর বৃদ্ধি করে ৩০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে ২০০১ সালে দেশের প্রথম সাফারী পার্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, কক্সবাজার এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সাফারী পার্কের আয়তন বৃদ্ধি করে ৯০০ হেক্টর করা হয়। বিদ্যমান পার্কটিকে আধুনিক ও বিশ্বমানের সাফারী পার্কে রূপান্তর করার লক্ষ্যে অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী জুলাই/২০১৯ হতে জুন/২০২২ মেয়াদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক,কক্সবাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
 
অবস্থানঃ
অক্ষাংশঃ ২১৩৮৩০ থেকে ২১৪০৬০ উত্তর;
দ্রাঘিমাংশঃ ৯২৪৩০ থেকে ৯২৬৫০ পূর্ব।
 
চট্টগ্রাম শহর হতে ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কক্সবাজার থেকে ৪৭ কিলোমিটার চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে চকরিয়া সদর উপজেলা হতে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাফারী পার্ক অবস্থিত। সাফারী পার্কটির উত্তরে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দক্ষিণে খুটাখালি রিজার্ভ ফরেস্ট, পূর্বে বান্দরবান জেলা ও পশ্চিমে চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়ক।
 
আয়তনঃ
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ও হারগাজা ব্লকের ৯০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কটি গঠিত।
 
রক্ষিত বন্যপ্রাণীঃ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে বিভিন্ন বেষ্টনীতে দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ৮৫ টি পাখি, ৬৯ টি সরীসৃপ ও ১৫০ টি স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে । এছাড়াও পার্কে হরিণ, বানর, বনবিড়াল, মেছোবিড়াল, বন্য শূকর ,সজারু, বন মোরগ, ফিঙ্গে ,ঘুঘু, চিল সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে পার্কের বিভিন্ন লেক ও জলাশয়।